ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৭১ জন আরোহী নিয়ে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত আরও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান, যেখানে এখন পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসার্নাস-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো।
বাসার্নাস জানায়, ‘কেএমপি মুতিয়ারা সেন্টোসা ২’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। যাত্রী ও ক্রুসহ মোট ২৭১ জন নিয়ে ফেরিটি জাভা সাগরের মাদুরা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ফেরির ক্যাপ্টেন জরুরি সংকেত পাঠিয়ে সাহায্য চান। তবে কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আগুন দ্রুত পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইনিউজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির ওপরের অংশ ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে গেছে। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী লাইফ জ্যাকেট পরে ডেকে অবস্থান নেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপ দেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাসার্নাস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। লাইফবোট ও সমুদ্রে ভাসতে থাকা বহু যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ ৪১ জনের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার, টহল জাহাজ এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশায় সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফেরিটির প্রযুক্তিগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই অগ্নিকাণ্ডও দেশটির নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।