বন্ধ করুন
কিশোরগঞ্জের হাওরে বর্ষা মন্থর, পর্যটন শিল্পে মন্দার শঙ্কা
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


কিশোরগঞ্জের হাওরে বর্ষা মন্থর, পর্যটন শিল্পে মন্দার শঙ্কা


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
কিশোরগঞ্জের হাওরে বর্ষা মন্থর, পর্যটন শিল্পে মন্দার শঙ্কা
কিশোরগঞ্জের হাওরে বর্ষা মন্থর, পর্যটন শিল্পে মন্দার শঙ্কা
Featured Image

কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নতুন পানিতে ডুবো সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় সরকারি ছয়টি ফেরিঘাট গত ১৮ই জুন থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী ও পর্যটকদের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা অথবা ট্রলার। পুরোদমে বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়ায় বর্তমানে কেবল স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বর্ষার পানি না আসায় পুরোদমে পর্যটন মৌসুম শুরু হতে আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শেষে হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা এখন বিশ্রামে থাকলেও, নিকলীসহ পুরো হাওর অঞ্চল দূরদূরান্তের পর্যটকশূন্য।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, স্থানীয় পর্যটক ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার পর্যটকদের দেখা মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর পরিপূর্ণ বর্ষা না হলে বর্ষাকালের ব্যবসা-বাণিজ্য খুবই মন্দা যাবে। নৌকা ও ট্রলার মেরামত করে প্রস্তুত রাখা হলেও পানির অভাবে পুরোপুরি চালানো যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, এই সময়ে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসতো, কিন্তু এখন পর্যন্ত বর্ষার পানি না আসায় পর্যটন মৌসুম শুরু হয়নি এবং পর্যটকরাও আসছেন না। তবে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বর্ষাকাল পুরোদমে শুরু হবে।

বর্ষাকালে হাওর এলাকায় যেদিকে চোখ যায়, দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আর থৈ থৈ পানিতে কল কল ঢেউ চোখ জুড়িয়ে দেয়। জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই যেন আলাদা। বর্ষাকাল শেষ হলে শীতে ভিন্ন এক আমেজ দেখা যায়, যেখানে সবুজ মাঠ ও সোনালী ফসলের প্রকৃতি মন ভরিয়ে তোলে।

কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা, যা ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং ১৯৮৫ সালে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবে নথিভুক্ত। বাংলাদেশ সরকার এই জেলার চারটি উপজেলাকে হাওর উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে: নিকলী, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম।

বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের গ্রামগুলো পানিতে দ্বীপের ন্যায় ভেসে থাকে, যেখানে ছোট ছোট গ্রাম, স্বচ্ছ জলের খেলা, জেলেদের ব্যস্ততা এবং হাওরের তরতাজা মাছ পাওয়া যায়। নিকলী হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলো পুরো বর্ষাকাল, অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পানি কমতে শুরু করে এবং শীতের আগে শুকিয়ে যায়।

ঢাকা থেকে ট্রেনে নিকলী যেতে চাইলে আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন (বুধবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসে) ব্যবহার করা যায়। মানিকখালী অথবা গচিহাটা স্টেশনে নেমে ইজিবাইক, অটোরিকশা বা সিএনজিতে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে নিকলী পৌঁছানো যায়। ট্রেনের টিকিট মূল্য ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

বাসে যেতে চাইলে ঢাকার গোলাপবাগ, গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। কটিয়াদি থেকে সিএনজিতে (ভাড়া ৮০ টাকা জনপ্রতি, রিজার্ভ ৫০০ টাকা) প্রায় ৫০ মিনিটে নিকলী পৌঁছানো যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। সিএনজিতে জনপ্রতি ৮০ টাকা বা রিজার্ভ ৪০০-৪৫০ টাকায় প্রায় ১ ঘণ্টায় যাওয়া যায়। ভৈরব বাজার থেকেও সিএনজিতে জনপ্রতি ১৫০ টাকা বা রিজার্ভ ৭০০ টাকায় দেড় ঘণ্টায় নিকলী পৌঁছানো সম্ভব।

নিকলী উপজেলা পরিষদ মোড়ে আল্লাহর দান হোটেল রিজিক, হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ এবং নিকলী নতুন বাজারে হোটেল সাড়ে বাইশ-এর মতো কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে। এখানে হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খাওয়া যায়।

হাওর ঘুরে দেখার জন্য নিকলী বেড়িবাঁধের মাথা থেকে অথবা নতুন বাজার ফেরিঘাট থেকে দরদাম করে নৌকা ভাড়া করা যায়। ছোট নৌকা প্রতি ঘণ্টা ৪০০-৫০০ টাকা এবং বড় নৌকা ৭০০-৮০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। একটি নৌকায় ১০-৩০ জন পর্যন্ত উঠতে পারে।

সারাদিনের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করে নিকলীর ছাতিরচরের করস বাগান, মিঠামইন উপজেলা সদর এবং সেখান থেকে অটোরিকশায় অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলা ঘুরে আসা যায়। তবে বৈরী আবহাওয়া বা উত্তাল ঢেউ থাকলে নৌকা ও ট্রলার ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভরা বর্ষায় পানি বেশি থাকায় গোসলের জন্য লাইফ জ্যাকেট নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

অষ্টগ্রাম, মিঠামইন এবং ইটনা এই তিনটি হাওর উপজেলার জন্য প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটারের অল ওয়েদার সড়ক এবং ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়ক তিনটি উপজেলার মধ্যে সারা বছর যোগাযোগ রক্ষা করলেও, জেলা সদর বা দেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়নি। তবে নিকলী উপজেলার সঙ্গে সড়ক পথে সারা বছর যোগাযোগ রয়েছে।