বন্ধ করুন
অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রহীনতার ফাঁকফোকর: ৮ হাজার মানুষের অনিশ্চিত জীবন
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রহীনতার ফাঁকফোকর: ৮ হাজার মানুষের অনিশ্চিত জীবন


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রহীনতার ফাঁকফোকর: ৮ হাজার মানুষের অনিশ্চিত জীবন
অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রহীনতার ফাঁকফোকর: ৮ হাজার মানুষের অনিশ্চিত জীবন
Featured Image

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর অভাবে আট হাজারেরও বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হিসেবে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। নাগরিকত্বের অভাবে তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে গুরুতর জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য একটি জাতীয় আইনি কাঠামো প্রণয়নের উপর জোর দিয়েছেন।

এই বাস্তবতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ ২৩ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আসমা নাঈম উল্লাহ। দীর্ঘ ১১ বছর রাষ্ট্রহীন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেন। আসমা বলেন, "আমি নিজেকে রাষ্ট্রহীন মনে করি না, কারণ আমি জানি আমার পরিচয় কী। আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি। কিন্তু সেখানে আমাকে গ্রহণ করা হয় না।"

আসমার মা সাজেদা নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে ‘নবজাতকের মতো নতুন জীবন’ পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের কাছে ২০২৬ সাল তাই ‘সোনালী বছর’। এখন তারা নিজেদের ‘অস্ট্রেলিয়ান রোহিঙ্গা’ হিসেবে পরিচয় দেন। সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করা আসমা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান রোহিঙ্গা উইমেনস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন।

মেলবোর্ন ল স্কুলের পিটার ম্যাকমুলিন সেন্টার অন স্টেটলেসনেস-এর গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এক দশকেরও বেশি সময় আগে আশ্রয়ের জন্য দেশটিতে এসেছেন। কেন্দ্রটির সহযোগী পরিচালক কেটি রবার্টসন জানান, ২০২৫ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮ হাজার ১৮৩ জন রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি রয়েছেন, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

রবার্টসন আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রহীনতার কোনো অভিন্ন আইনি সংজ্ঞা বা তাদের শনাক্ত করার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। রোহিঙ্গা, ফেইলি কুর্দি, উপসাগরীয় অঞ্চলের বেদুইন এবং ফিলিস্তিনিদের মতো জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি আইনি অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

রিফিউজি অ্যাডভাইস অ্যান্ড কেসওয়ার্ক সার্ভিসেস (RACS)-এর পরিচালক সারাহ ডেল এই বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেছেন, আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্রবিহীন ব্যক্তিদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো সুস্পষ্ট পথ নেই। এর ফলে তাদের জন্য ভিসা পাওয়া এবং পরবর্তী ধাপের জন্য আবেদন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও শরণার্থী অধিকারকর্মীরা অস্ট্রেলিয়ার আইনে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করার জন্য একটি জাতীয় রাষ্ট্রহীনতা কাঠামো প্রণয়ন এবং তাদের স্থায়ী বসবাসের একটি কার্যকর পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাগরিকত্ব আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম রুবেনস্টাইন বলেন, বর্তমান আইন আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রহীনতা কনভেনশনের মানদণ্ড পূরণে যথেষ্ট নয়। তিনি একটি সুবিন্যস্ত ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলেন, যাতে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।