চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না বা সিপিসির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১০ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক দলের মতো নয় সিপিসি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরাসরি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত, যা একদম কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
পশ্চিমা বা উন্নয়নশীল দেশের দলগুলো যেখানে নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে সিপিসিকে অন্য কোনো দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় না। বরং এর মূল কাজ হলো প্রশাসনিক কাঠামো সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। সিপিসির প্রশাসনিক কাঠামোটি গড়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারসহ প্রাদেশিক, পৌর, কাউন্টি, টাউনশিপ ও গ্রাম—এই পাঁচটি স্তরে।
একসময় সিপিসি প্রধানত কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের দল থাকলেও বর্তমানে সদস্যপদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দলটির প্রায় ৫৮ শতাংশ সদস্য জুনিয়র কলেজ বা তার উচ্চতর ডিগ্রিধারী। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে গঠিত এই দলটি সমগ্র চীনা জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করে।
জনগণকেন্দ্রিক দর্শনের অংশ হিসেবে দলটি ২০২০ সালে চরম দারিদ্র্যের অবসান ঘটায় এবং ২০২১ সালের শুরুতে 'সবার জন্য সমৃদ্ধি' উদ্যোগ নেয়। 'পার্টি গঠন সম্পর্কে শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারা' অনুযায়ী আত্মশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে দলটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে চলেছে।