স্পেনের ক্রাউন প্রিন্সেস লিওনর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য প্রস্তুত হতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান ও মহাকাশ বাহিনীজুড়ে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পর তিনি রাজতান্ত্রিক জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও এমআইএসটি-র সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত থেকে খেমকরণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। সেসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্বসূরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পদাতিক বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা অর্জন করে।
সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা সরঞ্জামে নয়, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শে নিহিত। ২০১০-১২ সালে উদ্ভূত এ মূল্যবোধগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্মান, সততা, নিষ্ঠা, আনুগত্য, দেশপ্রেম, আস্থা, শ্রদ্ধা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগের আগে সেবা ও সাহস। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি সেনাবাহিনীর মূল আদর্শ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব সদস্য ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে মূল্য দেয়। ওই সংকটময় মুহূর্তে সৈন্যরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল, যার জন্য সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের কৃতিত্বের দাবিদার। সঠিক সময়ে এই অবস্থান না নিলে একটি বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মূলত ‘জনগণের সেনাবাহিনী’ নামে পরিচিত, কারণ এর মূল শক্তি জনগণের আস্থা ও সমর্থন। মাও জেদুংয়ের মতে, ‘জনগণ ছাড়া সেনাবাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না’। একটি পেশাদার বাহিনী তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে ওঠে।