ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ১৫ মে শুনানি চলাকালে মন্তব্য করেন যে, বেকার তরুণরা চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়ে মিডিয়া বা আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট হয়ে আরশোলার মতো প্রতিবাদী হতে থাকে। তার এই মন্তব্যের জেরে বস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক ও আম আদমি পার্টির সাবেক সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক একটি টুইট করেন। সেখান থেকেই মূলত বেকার তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সূত্রপাত।
অভিজিৎ দীপকের আহ্বানে দ্রুতই গঠিত হয় ডিজিটাল দল 'ককরোচ জনতা পার্টি'। অভিনব এই দলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে এক্স ও ইনস্টাগ্রামে ক্ষমতাসীন বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। ভারতে গত সাত বছরে ৬০ বারের বেশি নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সংকটের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দ্রুতই প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি মেনে নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সরকারের তরফ থেকে আন্দোলন দমাতে ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল সাসপেন্ড করা হয় এবং ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করার চেষ্টা চালানো হয়। শারীরিক আক্রমণের পাশাপাশি অ্যান্টি-ককরোচ গ্যাং তৈরি হলেও তরুণদের আটকানো যায়নি। রাজনীতির ইতিহাসে শাসকের অবজ্ঞার শব্দকে প্রতিবাদের পতাকায় রূপ দিয়ে ভারতের যুবসমাজ এখন মেধার ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির দাবি তুলছে।
এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কাঠামোগত মিল রয়েছে। বাংলাদেশেও কোটা সংস্কারের প্রশাসনিক সংকট শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নে রূপ নেয়। তরুণদের এই ডিজিটাল ক্ষোভকে কেবল 'অনলাইন ট্রেন্ড' বা 'মিম সংস্কৃতি' হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র যদি তাদের নাগরিক অংশীদার ও ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনির্মাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবেই এটি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।