চিরযৌবন ও সৌন্দর্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের বহু পুরোনো। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সৌন্দর্যচর্চায় নানা অপ্রচলিত পদ্ধতির প্রতি মানুষের আগ্রহ দেখা গেছে। বর্তমানে সন্তান জন্মের পর প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল গ্রহণের বিষয়টি বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটির মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
৪৩ বছর বয়সী কোর্টনি তার তৃতীয় সন্তান জন্মের পর প্লাসেন্টা ক্যাপসুল খেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একে 'জীবন পরিবর্তনকারী' বলে উল্লেখ করেন। ৪৪ বছর বয়সী অভিনেত্রী জানুয়ারি জোন্স ২০১১ সালে সন্তান জন্মের পর দ্রুত 'ম্যাড মেন' সিরিজের কাজে ফিরতে প্লাসেন্টা গ্রহণকে সহায়ক মনে করেন। এছাড়া ৪৫ বছর বয়সী হলিউড অভিনেত্রী অ্যালিসিয়া সিলভারস্টোন ২০১১ সালে পুত্র সন্তানের মা হয়ে এটি গ্রহণ করেন এবং একে 'সুখী বড়ি' আখ্যা দেন।
অন্য এক ৪৩ বছর বয়সী অভিনেত্রী, যার ২টি দত্তক নেওয়া এবং ১টি নিজের সন্তান রয়েছে, সন্তান জন্মের পর তার প্লাসেন্টা একটি কোম্পানিকে দেন শুকিয়ে ক্যাপসুল তৈরির জন্য। অন্যদিকে তারকা দম্পতি ম্যাথিউ ম্যাককনাঘি ও ক্যামিলা আলভেস প্লাসেন্টা না খেয়ে বাড়ির আঙিনার একটি আম গাছে সার হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই গাছে ৯ বছর পর প্রথম যে আম ধরেছিল, তা তারা সবাই মিলে খেয়েছিলেন।
যৌবন ধরে রাখতে 'ব্লাড কাউন্টেস' নামে পরিচিত হাঙ্গেরীয় অভিজাত নারী এলিজাবেথ ব্যাথরি তরুণীদের রক্ত ব্যবহার করতেন বলে কিংবদন্তি রয়েছে। আধুনিক যুগে প্রসব-পরবর্তী ক্লান্তি কমানো, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা, দুধ উৎপাদন বাড়ানো ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির আশায় অনেকে প্লাসেন্টা ক্যাপসুল বা স্মুদি বানিয়ে গ্রহণ করছেন।
তবে প্লাসেন্টা গ্রহণের এসব দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ বা সংরক্ষণের কারণে সংক্রমণসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের অপ্রচলিত চর্চা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।