বন্ধ করুন
প্রেমিকা হাজির হওয়ায় ভেঙে গেল বিয়ে, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত মর/দেহ উদ্ধার
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ২৯ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


প্রেমিকা হাজির হওয়ায় ভেঙে গেল বিয়ে, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত মর/দেহ উদ্ধার


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট:
প্রেমিকা হাজির হওয়ায় ভেঙে গেল বিয়ে, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত মর/দেহ উদ্ধার
প্রেমিকা হাজির হওয়ায় ভেঙে গেল বিয়ে, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত মর/দেহ উদ্ধার
Featured Image

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এক তরুণী এসে বরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করলে ভেঙে যায় বিয়ে। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে বরের বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১১টায় পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) বিয়ে ছিল পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে যান হেলাল মিয়া। খাওয়াদাওয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে উপস্থিত হন দুই তরুণী। তাদের একজন কুড়িগ্রামের পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮), অপরজন তার মামাতো বোন শাহিনুর বেগম (২৮)।

জান্নাতী খাতুনের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস ধরে হেলালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা একসঙ্গে বসবাসও করেছেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিজ বাড়িতে চলে আসায় সেই বিয়ে আর হয়নি।

জান্নাতী আরও দাবি করেছেন, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন, তবে সেই সংসারের বিচ্ছেদ হয়েছে এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।

এই দাবি বিয়েবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কনের পরিবার বিয়ে সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিয়ে ভেঙে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের আয়োজনের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরপক্ষ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়।

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। রাতে প্রায় ১১টার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে তার স্ত্রী হেলেনা বেগম স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘাগড়া ইউনিয়নের সদস্য মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই তরুণী এসে হাজির হন। তাদের একজন হেলালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করেন। এরপর বিয়ে ভেঙে যায়। পরে শুনেছি বরপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।