২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা জয়ের অন্যতম সদস্য ছিলেন বেঞ্জামিন মেন্ডি। আট বছর পর সেই বিশ্বজয়ের স্মৃতিই এবার নিলামে তুললেন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে পাওয়া অফিসিয়াল ট্রফির প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান গোল্ডিন আয়োজিত ‘দ্য ফুটবল গ্লোবাল অকশন, পার্ট-২’তে মেন্ডির ট্রফিটি বিক্রি হয়েছে ৬২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে, যা প্রায় ৫৪ হাজার ইউরোর বা ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমান।
আসল ট্রফি নয়, কী বিক্রি করেছেন মেন্ডি?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বিশ্বকাপের আসল ট্রফি কিভাবে বিক্রি সম্ভব? আসলে এটি ফিফার আসল বিশ্বকাপ ট্রফি নয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফিফা ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন প্রতিটি খেলোয়াড়কে স্মারক হিসেবে যে অফিসিয়াল প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) উপহার দেয়, সেটিই বিক্রি করেছেন মেন্ডি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট জানিয়েছে, ট্রফিটির সঙ্গে মেন্ডির নিজের হাতে স্বাক্ষর করা সত্যায়নপত্রও ছিল, যা এর আসল মালিকানা নিশ্চিত করে।
রেপ্লিকাটিতে ২০১৮ সালের মস্কো ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের স্মারক খোদাইও ছিল। দীর্ঘদিন নিজের কাছে রাখার কারণে ট্রফির নিচের অংশে সামান্য ফাটল ও ব্যবহারের কিছু চিহ্নও দেখা গেছে।
৩৮টি বিডের পর বিক্রি
বিশ্বকাপ ট্রফির এই প্রতিরূপটি কেনার জন্য আগ্রহ ছিল ব্যাপক। নিলাম শেষ হওয়ার আগে মোট ৩৮টি বিড জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই ২০২৬ ট্রফিটি বিক্রি হয়। উল্লেখ্য, নিলামটি শেষ হয় স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের অল্প কয়েকদিন পর।
শুধু ট্রফিই নয়
মেন্ডি শুধু বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপই বিক্রি করেননি। একই নিলামে তিনি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে পাওয়া বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিংও বিক্রির জন্য তোলেন। ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের পর সতীর্থদের জন্য বিলাসবহুল এই আংটিগুলো উপহার দিয়েছিলেন পল পগবা।
এ ছাড়া গোল্ডিনের ওই নিলামে পেলে, লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মতো কিংবদন্তি ও বর্তমান তারকাদের বিভিন্ন দুর্লভ স্মারক ও সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীও ছিল।
বিশ্বসেরা ডিফেন্ডার থেকে কঠিন সময়
ফ্রান্সের লা হাভর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা মেন্ডি মার্সেই ও মোনাকোতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ২০১৭ সালে ৫৮ মিলিয়ন ইউরোতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন। সে সময় তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার।
তবে ২০২১ সালে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার প্রায় থমকে যায়। প্রায় দুই বছর নিষেধাজ্ঞা, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কারাবাসের পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস পান তিনি।
খালাস পাওয়ার পর লরিয়ঁ ও জুরিখে ক্যারিয়ার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও সেভাবে সফল হননি মেন্ডি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগন শেচচিনে যোগ দেন। গত মৌসুমে দলটি নবম স্থানে শেষ করার পর সম্প্রতি আরও এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।
২০২৫ সালের নভেম্বরে পোলিশ লিগে খেলার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেন্ডি বলেছিলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও পেয়েছেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘পোগনের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতাই আমাকে এখানে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রথম দিন থেকেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। কোচরা যখন স্টেডিয়াম, ম্যাচের পরিবেশ ও সমর্থকদের ভিডিও দেখিয়েছিলেন, তখন আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। পোল্যান্ডের বাইরে থাকা মানুষ বুঝতেই পারে না, এখানকার ফুটবল কতটা সুন্দর।’