বন্ধ করুন
ককরোচ আন্দোলনের মুখে মোদী সরকার: একদিকে কঠোর দমন-পীড়ন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে ভোলাবার চেষ্টা!
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ককরোচ আন্দোলনের মুখে মোদী সরকার: একদিকে কঠোর দমন-পীড়ন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে ভোলাবার চেষ্টা!


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট:
ককরোচ আন্দোলনের মুখে মোদী সরকার: একদিকে কঠোর দমন-পীড়ন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে ভোলাবার চেষ্টা!
ককরোচ আন্দোলনের মুখে মোদী সরকার: একদিকে কঠোর দমন-পীড়ন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে ভোলাবার চেষ্টা!
Featured Image

ভারতের 'কাকরোচ' আন্দোলন দমনে দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে মোদী সরকার — একদিকে কঠোর হাতে সামলানোর চেষ্টা, অন্যদিকে তরুণ সমাজকে কাছে টানার মরিয়া উদ্যোগ। মোদী সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে অন্যতম বড় এই প্রতিবাদ। আন্দোলনের উত্তাপ কিছুটা কমলেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের গ্রেপ্তার করে গুরুতর মামলা দেওয়া হয়েছিল, যাদের অনেকের বয়সই ১৮-র নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া সব অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অবশ্য আদালতের এই আদেশের আগেই, বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে বেশ কিছু বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার এখন তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করে মামলা দিচ্ছে এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের সবশেষ পরিস্থিতি

বিহার, আসাম ও দিল্লিতে মামলা প্রত্যাহারের পর পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ স্থগিত করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হওয়া এসব শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে মামলা তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকারগুলো। উল্লেখ্য, আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ মোদী সরকারের জন্য এক দুর্লভ ধাক্কা।

আন্দোলন চলাকালে নিউ দিল্লি সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের পাশাপাশি পেলেট গানও ব্যবহার করা হয়েছে। বিহারের সিওয়ানে এক পুলিশ কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের দিকে একে-৪৭ উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি চালানোয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি চালাতে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ক্যোমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় সিপিএম ও সিজেপি।

কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের এই কড়া নজর?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে করা কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক পোস্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এর কাছে এসব পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নাম, ঠিকানা, আইপি অ্যাড্রেস এবং লগ-ইনের সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় যন্তর মন্তরে আসা তরুণদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলও টুকে রাখতে দেখা গেছে পুলিশকে।

ডিজিটাল ফ্রিডমকর্মীদের মতে, সরকার নজরদারি বাড়িয়ে মুক্তচিন্তাকে দমন করছে। তবে সরকারের দাবি, জনস্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য

আন্দোলনে মাত্রাতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ ও পেলেট গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট ড্রোন ও সিসিটিভি ফুটেজ সহ সব ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, "যারা নিরপরাধ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, আইন তাদের বিচার করবে। তবে এর জন্য একদম নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দায় নির্ধারণ না করা পর্যন্ত কোনো তদন্তের মূল্য নেই।"