ক্যাপ্টেন মিয়া মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে দেশের সমুদ্র ও নৌপরিবহন খাতের পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস (বাংলাদেশ)’-এর নতুন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান ব্লু-ইকোনমি (নীল অর্থনীতি), আন্তর্জাতিক শিপিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিকস খাতকে সুসংগঠিত ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি যাত্রা শুরু করল।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ এবং এর বিশাল সমুদ্রসীমা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় সমুদ্রপথে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের হাজারো মেরিটাইম পেশাজীবী—যাদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ মার্চেন্ট নেভি ক্যাপ্টেন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, পোর্ট অপারেটর, কাস্টমস ও লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞ এবং মেরিটাইম গবেষকবৃন্দ। এই সকল দক্ষ জনশক্তিকে একক ছাতার নিচে এনে দেশের মেরিটাইম সেক্টরকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নেতৃত্বের মূল চালিকাশক্তি
সংগঠনটিকে সুনির্দিষ্ট ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী ও পেশাদার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন:
কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক: ক্যাপ্টেন মিয়া মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক: ইঞ্জি. জাহিদ হাসান
যুগ্ম আহ্বায়ক: মুহাম্মদ রিয়াজুল হাসান এবং তাইফুল ইসলাম
সদস্য সচিব: প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব: ফারহান ফুয়াদ
কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে রয়েছেন মেরিটাইম আইনের তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক দিক দেখভালের জন্য লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি, সাংগঠনিক কাজের জন্য কো-অর্ডিনেটর এবং মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ। এই বৈচিত্র্যময় নেতৃত্ব সংগঠনটিকে বহুমুখী কাজের কাজী করে তুলবে।
সংগঠনের মূল লক্ষ্য, ভিশন ও কর্মপরিকল্পনা
নব্য গঠিত এই অ্যাসোসিয়েশন শুধু একটি সাধারণ সংগঠন নয়, বরং এটি দেশের সমুদ্র অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কর্মরত বাংলাদেশী মেরিটাইম পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
২. ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বাংলাদেশের 'ব্লু-ইকোনমি' বা সমুদ্রসম্পদ ভিত্তিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে টেকনিক্যাল এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করা এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান ভিশন।
৩. দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং
মেরিটাইম প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক মেরিটাইম ফোরামগুলোর সাথে বাংলাদেশী পেশাজীবীদের সংযোগ আরও দৃঢ় করা হবে।
৪. আধুনিক বন্দর ও লজিস্টিকস পলিসি তৈরি
দেশের চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস চেইনের আধুনিকায়নে গবেষক ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে পলিসি পেপার তৈরি করে সরকারের কাছে পেশ করা হবে।
অর্থনীতির ক্রান্তিলগ্নে এই কমিটির তাৎপর্য
বর্তমানে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও ভূ-রাজনীতিতে সমুদ্রপথের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশও গভীর সমুদ্র বন্দর (যেমন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর) নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি যুগসন্ধিক্ষণে মেরিটাইম প্রফেশনালদের এই সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে মেরিন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে উদ্বুদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী ক্যাডেট ও ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।
নব গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি, সদস্য সংগ্রহ অভিযান এবং একটি সফল কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। মেরিটাইম সেক্টরের এই নতুন জাগরণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস।