রাজনীতির অন্ধ ভালোলাগা আর দলের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য কীভাবে একটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক বাস্তব ও মর্মান্তিক উদাহরণ মোঃ হামিদুল ইসলাম। দলের দুর্দিনে নিজের ব্যবসা, অর্থ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে আজ চরম আর্থিক অনটনে হাসপাতালের বিছানায় নয়, বরং নিজ বাড়িতেই স্যালাইন ঝুলিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।জানা যায়, তিনি ছিলেন রাজপথের অত্যন্ত সক্রিয় এবং পরীক্ষিত এক মুখ। দলের দুঃসময়ে তিনি ধামইরহাটের আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জিয়া সাইবার ফোর্স নওগাঁ জেলার প্রচার সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দলের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।কিন্তু দল ও আদর্শের প্রতি এই অতিরিক্ত নিবেদনই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী এই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের কঠিন সময়ে নিজের উপার্জনের পথ ও ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে তিনি নিয়মিত মিছিল, মিটিং ও দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। দলের পেছনে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি একপর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের নির্মম শিকার হন তিনি। প্রতিপক্ষ ও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়ে সেসময় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। আজ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চরম আর্থিক সংকটের কারণে হাসপাতালে গিয়ে সুচিকিৎসা নেওয়ার মতো সামর্থ্যটুকুও তার নেই। বাধ্য হয়ে নিজ বাড়িতেই কোনোমতে স্যালাইন ঝুলিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিজের এই করুণ পরিণতির জন্য অন্য কাউকে দোষ না দিয়ে সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, দলের পেছনে নিজের সোনালী সময় ও অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি চিরতরে হারিয়েছি। আজ যখন অসুস্থ ও নিঃস্ব অবস্থায় বাড়িতে পড়ে আছি, তখন পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।"রাজনীতির মাঠে কর্মীদের এমন অন্ধ বলিদানের চিত্রটি আবারও এক বড় প্রশ্ন তুলে ধরল—দলের জন্য যারা সর্বস্ব বিলিয়ে দেন, দিনশেষে তাদের এই নিঃস্বতা ও অসহায়ত্বের দায়ভার নেবে কে?অসুস্থ ও আর্থিক অনটনে থাকা হামিদুল ইসলামের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে: ০১৭৪৩৩৬৭৪৯২।