বন্ধ করুন
ফিফা থেকে আর্জেন্টিনাকে আজীবন নিষিদ্ধের দাবি: ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক গণস্বাক্ষর!
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ফিফা থেকে আর্জেন্টিনাকে আজীবন নিষিদ্ধের দাবি: ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক গণস্বাক্ষর!


মোঃ মেহেদী হাসান
মোঃ মেহেদী হাসান Sports Desk
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট:
ফিফা থেকে আর্জেন্টিনাকে আজীবন নিষিদ্ধের দাবি: ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক গণস্বাক্ষর!
ফিফা থেকে আর্জেন্টিনাকে আজীবন নিষিদ্ধের দাবি: ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক গণস্বাক্ষর!
Featured Image

 ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠের বাইরের এক নতুন বিতর্কে উত্তাল ফুটবল দুনিয়া। আর্জেন্টিনাকে ফুটবল বিশ্বকাপসহ সমস্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা নিষিদ্ধ করার দাবিতে অনলাইনে শুরু হওয়া একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 'argentinaout.com' নামক একটি প্ল্যাটফর্মে শুরু হওয়া এই পিটিশনটিতে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে মানুষ ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন।

পিটিশনের মূল কারণ ও অভিযোগসমূহ

আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে বর্তমানে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই পিটিশনে মূলত ৩টি প্রধান অভিযোগ তোলা হয়েছে:

১. রেফারি ও ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: গণস্বাক্ষরের বিবরণীতে দাবি করা হয়েছে যে, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফিফা এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা আর্জেন্টিনা এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। পিটিশনের ভাষায়, “যদি আর্জেন্টিনার বিজয় আগেই নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে বাকি দলগুলো কেন এই টুর্নামেন্টে খেলবে?” নকআউট পর্বে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচ এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে একাধিক পেনাল্টি ও ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়ায় ফুটবল ভক্তদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন।

২. খেলোয়াড়দের উগ্র ও অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ: স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারের হাতাহাতি এবং মাঠের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দলটির ভাবমূর্তিকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং পিটিশনে স্বাক্ষরের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

৩. রাজনৈতিক এবং বর্ণবাদী বিতর্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) সংক্রান্ত রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করে উদ্‌যাপন করেছিলেন, যা নিয়ে ফিফা পৃথকভাবে তদন্ত করছে। এছাড়া সমর্থকদের একাংশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।

গিনেস রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে

ডিজিটাল দুনিয়ার ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ গণস্বাক্ষর অভিযান হিসেবে নাম লিখিয়েছে। ২০০০ সালের ঋণ মওকুফ সংক্রান্ত 'জুবিলি ২০০০' ক্যাম্পেইনের ২ কোটি ৪৩ লাখ স্বাক্ষরের পর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন জনমতের একটি রূপ নিয়েছে।

ফিফার অবস্থান এবং আইনি বাস্তবতা

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই পিটিশনটি ফুটবল অনুরাগীদের তীব্র আবেগ এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও এর কোনো অফিশিয়াল বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফিফার নিজস্ব নিয়ম ও আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে নিষিদ্ধ করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বড় ধরণের নিয়মভঙ্গের (যেমন সরকারি হস্তক্ষেপ বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন) প্রমাণ থাকতে হয়। কেবল অনলাইন পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে ফিফা কোনো পরাশক্তি দেশকে নিষিদ্ধ করবে না। তবে মাঠের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনার জন্য আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের উপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।