বন্ধ করুন
ভারতে প্রতিবাদের আগুন উত্তাল 'তেলাপোকা' আন্দোলনে কাঁপছে মোদি সরকারের ভিত!
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ভারতে প্রতিবাদের আগুন উত্তাল 'তেলাপোকা' আন্দোলনে কাঁপছে মোদি সরকারের ভিত!


মোঃ মেহেদী হাসান
মোঃ মেহেদী হাসান প্রধান প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট:
ভারতে প্রতিবাদের আগুন উত্তাল 'তেলাপোকা' আন্দোলনে কাঁপছে মোদি সরকারের ভিত!
ভারতে প্রতিবাদের আগুন উত্তাল 'তেলাপোকা' আন্দোলনে কাঁপছে মোদি সরকারের ভিত!
Featured Image

ভারতের রাজপথ এখন জ্বলছে ছাত্রসমাজ ও তরুণদের তীব্র প্রতিবাদ আর ক্ষোভে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজিরবিহীন 'তেলাপোকা' আন্দোলন। শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন এখন শুধু দিল্লির যন্তর মন্তর কিংবা ভারতের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ঢেউ আছড়ে পড়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন থেকে শুরু করে ইউরোপের নানা প্রান্তে।

শিক্ষার্থী বনাম সিস্টেম: ক্ষোভের বিস্ফোরণ

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার গলদ আজ তরুণ সমাজকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারি মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ফলে, ছাত্র-জনতা আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ফলাফল বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয়, এটি হলো দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়িত্বহীন সিস্টেমের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এক বিশাল বিস্ফোরণ।

তেলাপোকার শক্তি: 'মায় ভি ককরোচ'

আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের ধরন এবং প্রতীকী প্রতিবাদ সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের মাথায় তেলাপোকার মূর্তি ধারণ করে স্লোগান দিচ্ছেন—"আমরা তেলাপোকা, আমরা থাকব, আমরা জিতব!" তেলাপোকাকে যেমন সহজে ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করা যায় না, ঠিক তেমনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও ঘোষণা দিয়েছেন—তাদের অধিকার হরণ করা এত সহজ নয়। 'মায় ভি ককরোচ' (আমিও তেলাপোকা) স্লোগানটি আজ ভারতের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত হয়েছে।

ক্ষমতার দাম্ভিকতা বনাম যৌক্তিক দাবি

সরকারের তরফ থেকে বারবার সমঝোতার কথা বলা হলেও, আন্দোলনকারীরা তাদের মূল দাবি থেকে এক চুলও নড়তে নারাজ। যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তারা কোনো লোকদেখানো আশ্বাসে ভুলবেন না। তাঁদের পরিষ্কার দাবি হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর ওপর কোনো প্রকার হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

দেশ থেকে দেশান্তরে সংহতি

এই আন্দোলন আজ আর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আটকে নেই। নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ার থেকে শুরু করে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে পর্যন্ত প্রবাসী ভারতীয় ও শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি বার্লিন বা ডাবলিনের মতো শহরগুলোতেও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা বিশ্বমঞ্চে এর প্রতিধ্বনি প্রমাণ করে যে, তরুণদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে এখন আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

ইতিহাস সাক্ষী, তরুণদের গড়া আন্দোলনই যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ভারতের এই চলমান আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, অন্ধ সমর্থন বা ফাঁকা বুলির চেয়ে দেশের শিক্ষা ও তরুণ সমাজের মেরুদণ্ড রক্ষা করা বেশি জরুরি। দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে মেধার জয়গান প্রতিষ্ঠা করাই এখন এই আন্দোলনের একমাত্র লক্ষ্য। ভারতের এই প্রতিবাদী আগুন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারই আনবে না, বরং আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথও বদলে দিতে পারে।