বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় ধরনের পটপরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নির্ভরযোগ্য সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শীঘ্রই তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তিনি শীর্ষ সাংবিধানিক পদে বহাল ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নানা জটিলতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে তাঁর এই বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পদত্যাগের নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে প্রধানত শারীরিক অসুস্থতাকে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ রয়েছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের কাছে এক সাক্ষাৎকারে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি নিজেকে কিছুটা উপেক্ষিত ও অবমূল্যায়িত বোধ করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সরকার চাইলে তিনি পদে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন অতি সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে লন্ডনে চিকিৎসা সফরকালে তাঁর ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এছাড়া ওয়ান-ইলেভেন বা বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বহুল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সাথে তাঁর অতীতের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার থাকাকালীন ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর পদত্যাগের ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।