রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর ২ মাস ৩ দিন পেরিয়ে গেছে। ১৯ মে, ২০২৬ সালের সেই বীভৎস ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার বাসায় গিয়ে শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং ১ মাসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড কম সময়ে বিচারিক আদালতের রায় এলেও, দীর্ঘ দুই মাসেও আইনি জটিলতায় মূল রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে রামিসার পরিবারের।
রেকর্ড গতির বিচার, কিন্তু থমকে আছে বাস্তবায়ন
গত ১৯ মে, ২০২৬ তারিখে পল্লবীর সেকশন-১১ এর একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে খুন হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। পুলিশ দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মাত্র ২০ দিনের মাথায় ৭ জুন, ২০২৬ তারিখে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।
সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে এই রেকর্ড গতির বিচারকে দেশের বিচার ব্যবস্থার অভূতপূর্ব মাইলফলক হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বিচারিক আদালতের রায়ের পর এখন প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া—ডেথ রেফারেন্স শুনানি এবং উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও বর্তমান বাস্তবতা
হত্যাকাণ্ডের পর ২১ মে রাতে রামিসার মিরপুরের বাসভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকরের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আইন মন্ত্রণালয় থেকেও পরবর্তীতে তিন মাসের মধ্যে পুরো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাঁসি কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়েছিল।
আজ ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর রামিসার পিতা আবদুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। নিহতের পরিবারের বক্তব্য, "আদালত দ্রুত রায় দেওয়ায় আমরা আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই ১ মাসের প্রতিশ্রুতির কোনো অর্থ থাকবে না। আমরা চাই দ্রুত ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ করে খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক।
বিশেষজ্ঞদের মত ও নাগরিক সমাজের দাবি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিপক্ষের আপিল নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন না করলে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা দাবি তুলেছেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ও নৃশংস মামলার ক্ষেত্রে কোনো আমলাতান্ত্রিক বা আইনি বিলম্ব সহ্য করা উচিত নয়। প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষার্থে রাষ্ট্রপক্ষকে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশের মানুষ গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে—রামিসা হত্যার চূড়ান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে রাষ্ট্র কি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে, নাকি বাকি আর দশটা সাধারণ মামলার মতোই এটিও ফাইলবন্দি হয়ে ঝুলে থাকবে?