বন্ধ করুন
টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ: ঢাবির শিক্ষক পলাতক।
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ: ঢাবির শিক্ষক পলাতক।


প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট:
টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ: ঢাবির শিক্ষক পলাতক।
টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ: ঢাবির শিক্ষক পলাতক।
Featured Image

বিদেশে যাওয়ার টাকার দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানা গেছে।।​আহত গৃহবধূর নাম শিউলি রানী রায় (৩২)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা। সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ের পর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। ​এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিউলি রানী রায় ও তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। শিউলি রায় জানান, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদেরা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাকে দোষারোপ করতেন। সম্প্রতি তার স্বামীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করে। ​শিউলি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য আমার স্বামী আমার কাছে টাকা চাইতেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। গত ১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সে রুটি বেলার বেলন দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে মারধর করে। এতে আমার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান চোখেও প্রচণ্ড আঘাত পাই। ​ভুক্তভোগী জানান, মারধরের পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাবার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন বিদ্যুৎ। পথিমধ্যে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে গলফ ক্লাব এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে শিউলিকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি তাৎক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। ​হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের এক স্টাফ জানান, শিউলি সড়ক পড়ে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই সময় উপস্থিত জনতা তার স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্তকেও হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে শিউলির চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই কৌশলে হাসপাতাল থেকে কেটে পড়েন তিনি। পরে শিউলির জ্ঞান ফিরলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীর পরিবারকে খবর দেয়। ​শিউলির ভাই শুভ রায় অভিযোগ করে বলেন, "আমার বোনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মারধরের পর মোটরসাইকেলে করে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। যাতে তার মৃত্যুকে একটি সাধারণ ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। আমরা এই জঘন্য অপরাধের বিচার চাই। ​তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সেই অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত না থাকায়, এখন আদালতে একটি পূর্ণাঙ্গ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। ​ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ​এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।